অপু্র্ণতা – Bangla Love Story – ভালবাসার গল্প

Bangla Love story

সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি আজান দিচ্ছে।যোহরের আজান।মনে মনে ভাবলাম ভালোই হলো।সকালের খাওয়া বেচে গেলাম।সেই টাকা দিয়ে অন্তত দুপুরে খাওয়া যাবে।ফ্রেশ হয়ে ওয়ালেট খুজে দেখলাম মাত্র 60 টাকা আছে।সমস্যা নাই।এটাই অনেক।30 টাকা হলেই কলা আর পাউরুটি হবে।বাকি 30 টাকা রাতের জন্য।

আমি তেপান্তর। একটা ইউনিভার্সিটিতে পড়ি।নিতান্ত গরিব পরিবার থেকে আসা আমি এক নিস্তব্ধ দুপুরের ন্যায় নিশ্চুপ প্রানি।যার কোনো কিছুতেই কোনো আপত্তি নেই।এর মাঝেও আমি অনেক সুখি।কারণ আমারও অন্যদের মতো একটা সুন্দরী গার্লফ্রেন্ড আছে।অন্যদের মতো বললে ভুল হবে।ও হচ্ছে সবার থেকে আলাদা একটা মানুষ। আর আমি হচ্ছি একটা প্রানি।মানুষের কাতারে নাকি আমি পড়ি না।মাঝে মাঝে ও আমাকে ভিন গ্রহের প্রানিও বলে। আমার হাসি পায়।

Bangla Love Story

কলেজের প্রথম কয়েকমাস আমি কোনো মেয়ের দিকে তাকাইনি।ফার্স্ট ইয়ারের পর সেকেন্ড ইয়ার যায় যায়।এমন সময় সে আমার মন কেড়ে নেয়।তাকে ভয়ে ভয়ে বলে দেই আমার মনের কথা।যেটার ভয় করেছিলাম সেটাই হয়েছিল।পরে ভাবলাম আমার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড আর তার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক ডিফারেন্স। সে প্রেমইতিহাস পরে একসময় বলব।তবে কয়েক মাস পর সে রাজি হয়ে যায়।

শুধু রাজিই নয়।সে নাকি আমার প্রেমে পাগল। প্রেমে পাগল হওয়া যায় এটা সিনামাতে দেখতাম।কিন্তু বাস্তবে আমার সাথে এমনটা ঘটবে তা আমি আশা করি নি।কিন্তু আমি বোধহয় তার প্রেমে পাগল নই।সেরকম অনুভুতি আমার কখনো হয় নি।শুধু তার কথা মনে পরলে বুকটা চিন চিন করে,আর কিছু ভালো লাগে না।তবে কি এটাই প্রেম পাগলামি?? কে জানে এটা কি??।আমার কথা-বার্তা, সরলতায় নাকি সে মুগ্ধ।

যাই হোক 30 টাকা নিয়ে গেলাম এক ফুটপাতের দোকানে। রুটি-কলা খেলাম ভালোই।এর মদ্ধ্যেই ফোন বেজে উঠল আমার প্রেমে পাগল নুরির।
-হ্যালো কই তুমি??
-রুমে আছি(আমি)
-রুমে থাকলে গাড়ির আওয়াজ পাই কেন??সত্যি করে বলো।
-এইত মেসের সামনের দোকানে।(আমি)
-যেখানেই থাকো এক্ষুনি চলে আসো।
-কোথায়???(আমি)
-ন্যাকামি করো নাতো। প্রতিদিন বলতে হবে??প্রতিদিন তো একই জায়গায় আসতে বলি।ওকে।আমি যাচ্ছি।
-তারাতারি আসবা।10 মিনিটের মধ্যে। আমি ওয়েট করছি

(দেখা হওয়ার পর)
-আসছো??হুম।জিজ্ঞেস করবা না 25 মিনিট কেন লাগলো?? (আমি)
-না।তার কি দরকার। প্রতিদিন তো একই কথা বল যে রিকশা ভাড়া ছিলো না।তাই তো??

হুম।আমাকে কি তোমার বিরক্ত লাগে না?? (আমি)
-কেন??
-কারন এই যে আমার টাকা-পয়সা নাই,তারপর আনরোমেন্টিক একটা ছেলে আমি।
-আমার রোমেন্সেরও দরকার নাই আর টাকারও দরকার নাই।
-তুমি এতটা ভালো। যাইহোক কেন ডেকেছো এতো আরজেন্টলি।(আমি)
-তোমাকে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছিলো তাই।দীর্ঘ 1 নয় 2 নয় পুরো 15 ঘন্টা ধরে দেখিনা তোমাকে।
-ওরে আমার গুলুলুলু রে।15 ঘন্টাই বেশি আর যদি…(আমি)
-বাজে কথা বললে মাইর খাবা।এই সকালে কি খাইছো??
-এইতো ভুনা মাংস আর খিচুড়ি। (আমি)
-দেখ আমি অন্য মেয়ের মতো না যে সত্যি বললে তোমার সম্মান যাবে। তোমার সব কিছু আমি যানি।সত্যি করে বলো??
-পাউরুটি আর কলা।(আমি)
-আমি যানতাম।

Bangla Love Story

নুরি তার ব্যাগ খুজতে লাগলো। আমি ভাবলাম কিছু বোধহয় রান্না করে নিয়ে এসেছে।ভালোই হলো।অনেক দিন হলো ভালো-মন্দ কিছু খাই না।কিন্তু আমার ভাবনার বিরুদ্ধে বেশি ভাগ সময়ই অনেক কিছু ঘটে।আজও তাই।
-এই নাও।
-কি এটা।কিছু রান্না করে নিয়ে আসছ নাকি??অনেক দিন হলো ভুনা মাংস আর খিচুড়ি খাই না।(আমি)
-না।এখানে একটা শার্ট আছে।1 বছর হলো এই শার্টটাই দেখছি।
-শুধু শার্ট। প্যান্ট দিবা না??
সে বোধহয় একটু লজ্জা পেল।
-পরের মাসের হাত খরচের টাকাটা দিয়ে প্যান্ট দিব গো।
-তুমি লজ্জা পাচ্ছ কেন??লজ্জা তো পাওয়ার কথা আমার।আমি তোমাকে কিছু দিতে পারি না।
-আরে বাদ দাও না।এইতো আর কয়েকটা মাস।তারপর মাস্টার্স শেষ। তারপর তোমার একটা চাকরি হলেই হবে।তারপর আমরা দুজনে বিয়ে করব।সংসার করব।শান্তিতে থাকব।এক বালিশে শুবো।সকালে নিজ হাতে তোমাকে চা খাওয়াব।আরও কতো কি।
-এতো স্বপ্ন দেখ তুমি?(আমি)হুম।আমি তোমাকে নিয়ে যে কতো স্বপ্ন দেখি যেটা যদি তুমি যানতে…
-আর যদি…(আমি)
-বলছি না বাযে কথা বলাবা না??
-না মানে বলছি চাকরিটা যদি না হয়??(আমি)
-আরে তোমার চাকরি হবে না তো কার হবে।ভার্সিটি টপার তুমি।
-তার আগে যদি…(আমি)
-মাইর দিব।বাজে কথা বলতে নিষেধ করছি না।
-আমি তো বললামি না।
-বলবা না।চুপ থাকবা।তুমি আর আমি একসাথে থাকব এটার ফিক্সড। নুরির বাড়ি থেকে ফোন আসল।সে চলে গেল। আমিও চলে এলাম মেসে। সকালে যা খাইছিলাম সব হজম হইছে হাটতে হাটতে।তবুও কোনো উপায় নাই রাত ছাড়া।এমন এক মেসে থাকি যখানে শুধু থাকার ব্যাবস্থা আছে।পানি ছাড়া আর কিছুই খাওয়ার ব্যবস্থা নেই।

বিকেলে আবার ফোন।
-হ্যালো নুরি।বলো।
-মেসে এসে আমাকে ফোন দিয়ে বললা না যে পৌছে গেছি কি না??
-তুমি তো যানই।(আমি)হুম।ফোনে টাকা ছিলো না।তাই তো??

হুম।আর তা ছাড়াও কলরেট এখন লাগামছাড়া। এই সিম কোম্পানি গুলাও কিচ্ছু বোঝে না।কতো ছেলে-মেয়ে,প্রেমিক-প্রেমিকা যে এদের জালায় মনে কস্ট পায় সেটা যদি তারা যানতো তাহলে কলরেট আনলিমিটেড ফ্রি করে দিত।(আমি)

হুম আর বলতে হবে না।তারাতারি চলে আসো। 10 মিনিটের মধ্যে।
-দুপুরেই না গেলাম।আবার হাটব??
-তুমি এক কাজ করো। তুমি একটা রিকশা নিয়ে আসো। আমি ভাড়া দিচ্ছি।

ওকে।তাহলে আসছি।

আজকে আর লেট করলাম না।10 মিনিটের মধ্যে পৌছে গেলাম।রিকশা ভাড়া নুরি দিলো।
-আজকে বেশি ওয়েট করতে হলো না।
-আসলে লোকে বলে টাকা থাকলে সব সহজ হয়।কথাটা মনে হয় সত্যি।
(দেখলাম ও আবার ব্যাগে হাত দিয়ে কিছু বের করছে।ভাবলাম সকালে বলেছিলাম প্যান্টএর কথা।পাগলিটা মনেহয় আবার প্যান্ট কিনেছে।ভালোই হলো।)
-অসব বাদ।এই নাও।
-কি এটা।
-ভুনা মাংস আর খিচুড়ি। আমার নিজ হাতে রান্না করা।
(বরাবরই আমার আন্ধাজের বিরুদ্ধে প্রায় সব কিছুই হয়।এবারও তাই)
-তুমি আমার এতটা কেয়ার কেন করো বলতো।সে হিসেবে আমি তোমার প্রতি বরই বেখেয়ালি। তাই না??।(আমি)
-ওলে আমাল বেখেয়ালি লে।তোমাকে কিচ্ছু করতে হবে না। তুমি শুধু আমাকে ভালোবাসবা।কিন্তু চাকরি না করলে তোমাকে নিয়ে খাব কি??(আমি)
-সে সব পরে হবে।তুমি এখন রুমে যাও।গিয়ে তারাতারি খাও।তোমাকে ভীষণ খিদা লাগছে।

হুম তাও ঠিক।

সে আমাকে রিকশা ভাড়া দিয়ে বিদায় করে দিলো।রুমে এসে ভাবলাম মেয়েটা আমাকে এতো ভালোবাসে।আমি কি তার ভালোবাসার মুল্য দিতে পারব।হয়ত পারব।আমাদের একটা সুখের সংসার হবে।অনেক ভালোবাসব তাকে আমি।কিন্তু আমি তো আগাম কিছু ভাবতে পারি না। যা ভাবি তার উল্টো হয়।তবুও তাকে বলতে ইচ্ছে করে-

“আমার ভিনদেশি তারা,
একা রাতের আকাশে,
তুমি বাজালে একতারা,
আমার চিলেকোঠার পাশে।”

এভাবেই বেশ কিছুদিন আমাদের ভালোবাসা চলতে থাকল।কিন্তু সেটা পথিমধ্যে বাধা পেল।নুরি বলল তার বাবা নাকি বিয়ের জন্য ছেলে দেখছে।সে নাকি আমার কথা তার বাবাকে বলেছে।তার বাবা আমার সাথে দেখা করতে চাইছে।আমাকে যদি তার পছন্দ হয় তাহলে ব্যাপারটা তিনি ভেবে দেখবেন বলেছেন।কিন্তু আমি তো এখনও প্রস্তুত না।আমি এখনও সেল্ফ-ডিপেন্ডেন্ট না।
-নুরি আমি এখনি তোমার বাবার সাথে দেখা করতে পারব না।(আমি)
-কেন??
-আমি এখনো স্ববলম্বি না।আর এই মুহুর্তে তো আমার এমন অবস্থা যে তোমার বাবার সামনে যাওয়ার মতো ভালো পোশাকও নাই।
-তার চিন্তা তোমার করতে হবে না।তোমার জন্য একটা প্যান্ট এনেছি।আর সেদিন যে শার্টটা দিলাম ওটার সাথে এই প্যান্টটা পরবা।
-ঠিক আছে।কিন্তু বলছিলাম যে….
-আর বলতে হবে না।জুতাটা অনেক জায়গায় ছেড়া,তাই তো??এতে কিছু টাকা আছে এটা দিয়ে জুতা কিনে নিবা।
-কবে দেখা করব তোমার বাবার সাথে??
-বাবা তোমার সাথে কালকে দেখা করতে বলেছে।বাবা যা যা জিজ্ঞেস করবে তুমি বানিয়ে বানিয়ে বেশি বেশি বলবা।
-ঠিক আছে।

(পরের দিন নুরির বাবা আর আমি মুখোমুখি বসে আছি।লোকটা আর্মিতে ছিলো। তাই নিয়মের ব্যাপারে কঠিন)
-তো বাবা তোমার নাম কি??
-জি আংকেল তেপান্তর।
-বাবা কি করে?
-জি আংকেল কিছু করে না।
-কিছু করে না।তাহলে সংসার চলে কিভাবে??
-এরকমি চলে চলেনা।
(এর মধ্যে চা নিয়ে আসা হলো।চায়ে চুমুক দিয়ে তিনি বল্লেন-)
-আজকের চা টা তোমার আন্টি ভালোই বানিয়েছে।হুম আংকেল।তবে এটা আন্টি বানায় নি।নুরি বানিয়েছে।
-তুমি কিভাবে জানলে??
-আপনার মনে নেই আংকেল আমি একদিন আপনাদের বাসায় এসেছিলাম নুরিকে একটা বই দেওয়ার জন্য। সেদিন আপনি বললেন চা খেয়ে যেতে।সেদিনও নুরি চা বানিয়েছিল।সেম টেস্ট।

নুরির বাবার সাথে আরও কিছুক্ষণ কথা হলো।কথা বলা বললে ভুল হবে।বলতে হবে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব। তিনি একের পর এক আমার বায়োডাটা নিতে লাগলেন।তারপর বল্লেন-
-দেখ বাবা ছেলে হিসেবে তুমি অনেক ভালো। তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে।কিন্তু তোমার আশায় আরও বছর খানেক কিভাবে অপেক্ষা করি বলো।তাছাড়া এখন যে পাত্র হাতে আছে সে বুয়েটে ইঞ্জিনিয়ার।ভালো পরিবার।আর তোমার সাথে নুরির মানিয়ে নিতে কস্ট হবে।আশা করি বুজতে পেরেছ।এবার আসতে পার।

নুরির বাবা অনেক ভদ্র একজন মানুষ। সুন্দর ভাবে কথা গুছিয়ে বলতে পারে।এত দিনের ভালোবাসা মাত্র 5 লাইনের কথায় রুখে দিলেন।এদিকে পাগলিটার অবস্থা খুবই খারাপ।পালিয়ে যেতে চায়।কিন্তু তা আদৌ সম্ভব না।তার পরিবার তাকে কোনো দিন মেনে নেবে না।তাই আমিও নুরির বাবার কথায় সায় দিলাম।

Bangla Love Story

-আজ নুরির বিয়ে।রাত ঠিক 10ঃ 25। বুকের ভিতরে চিন চিন করছে।তীব্র জালা।একবারের জন্য হলেও নুরির সাথে দেখা করতে হবে।অনেক কস্টে তার সাথে দেখা হলো।
-কেমন আছো তুমি???(আমি)
(কোনো কথা বলছেনা পাগলিটা।শুধু কাদছে)
-কথা বলো??(আমি)
-চলো না পালিয়ে যাই??
-আরে না।তা কিভাবে সম্ভব। তোমার পরিবার থেকে তোমাকে তেহ্য করবে।
-করুক।তবুও আমি তোমার সাথে থাকব।
-তোমার বাবা আমাকে কোনোদিন মেনে নেবে না।(আমি)
-আমি যদি তোমাকে না পাই তাহলে আমি আত্বহত্যা করব।
-এসব পাগলামি করো না।আমার ভালোবাসার দোহাই তুমি আত্বহত্যা করবা না।(আমি)
-তুমি চলে যাও তেপান্তর। আর কখনও আমার সামনে আসবা না।আমাকে আর কস্ট দিও না।যাও তুমি।

আজ আমার কান্না পাচ্ছে না।সে জন্যই বোধহয় নুরি আমাকে অদ্ভুত প্রানি বলে ডাকে।ছেলেদের চোখের জল ঝড়ে না।কলিজা ফেটে রক্তিম রক্ত ঝড়ে যার আঘাত অনেক যন্ত্রনার।এ কথা আমি তাকে কিভাবে বোঝাব।

Bangla Love story

রাস্তাটা আজ খুব নিরব।আবহাওয়াও অনেক ভালো। হয়ত বরযাত্রীর জন্য প্রকৃতিও অনুকুলে।খুব ক্ষিধে পেয়েছে।পানিরও পিপাসা পেয়েছে খুব।একটা হোটেলে ঢুকলাম পানি খেতে। আমাকে দেখেই হোটেলের লোকটা বলল -‘আসেন ভাই আসেন ভুনা মাংস আর খিচুড়ি আছে আসেন’।কি অদ্ভুত তাই না।সে দিন ভুনা মাংস আর খিচুড়ি খাইয়েছিল নুরি ভালোবাসার বিনিময়ে।আজ হোটেলওয়ালা খাওয়াবে টাকার বিনিময়ে।তাহলে কি ভালোবাসা আর টাকা রেল লাইনের দুই পাতের মতো যা কখনও এক হয় না।হয়তো একদিন আমার টাকা হবে কিন্তু তখন নুরি থাকবে না।রেল-লাইনের দুই পাত কি কখনও একাসাথে মিলিত হয়??তবুও নুরিকেনুরিকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণঅসম্পূর্ণ

www.onirbanblogs.com

Share this

Leave a Comment